দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি ওয়াশিংটন। ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এ সপ্তাহের অধিবেশনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত সপ্তাহে জানায়, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হবে না। দপ্তরটির দাবি, এসব কর্মকর্তার কিছু কর্মকাণ্ড শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ভাতা দেওয়া ও সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করার মতো বিষয় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও অভিযোগ করেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য বক্তব্য ও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাসীদের প্রশংসা করা হচ্ছে।
তবে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, ফিলিস্তিন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদার এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের অগ্রগতির প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা শান্তির পথে বাধা—এমন দাবি তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আশ্রয় নেওয়া নিজেদের অধিকার রক্ষার একটি বৈধ ও শান্তিপূর্ণ উপায় বলেও মন্তব্য করেছে তারা।
১৯৯৩ সালে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়। পশ্চিম তীর ও গাজা শাসনের দায়িত্ব এই কর্তৃপক্ষের ওপর থাকার কথা থাকলেও কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশক ধরে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে হামাস।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর পশ্চিম তীরের রামাল্লায়। এতে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক গোষ্ঠী রয়েছে। তবে হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এর অংশ নয় বলে জানিয়েছে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স।
এদিকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের জনপ্রিয়তা নিয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৪ সালে ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর থেকে পিএর নেতৃত্বে রয়েছেন আব্বাস। সমালোচকদের একাংশ তার নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিক বৈধতার ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন।
২০২৫ সালে দেওয়া এক চিঠিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলার নিন্দা জানান আব্বাস। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি বলে সিএনএনের প্রকাশিত চিঠির অংশবিশেষে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/